#রাজনীতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন নিলোফার মনি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি তার বক্তব্যকে ‘কাটছাঁট করে’ প্রচার করার অভিযোগ তুলেছেন এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি কখনোই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘ডিজাইন করা আন্দোলন’ হিসেবে অভিহিত করেননি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষের মানুষ। আন্দোলনের সময়ও আমি টকশো করেছি। আমি বলেছি, পুলিশের কাছে স্নাইপার ছিল না। তাহলে এসব অস্ত্র কোথা থেকে এলো, সেটার তদন্ত হওয়া উচিত।’

‘জুলাই ডিজাইন’ মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন, ‘আমি ‘জুলাই ডিজাইন’ বলেছি এই অর্থে যে, ষড়যন্ত্র করে আমাদের ছেলেগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। আমি তো বলিনি, জুলাই আন্দোলন ডিজাইন করা হয়েছিল। আমার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, আমাদের ছেলেদের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পনা বা ডিজাইন করা হয়েছিল।’

এর আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে নিলোফার চৌধুরী মনি বলেছিলেন, ‘এই আন্দোলনে কারা যে মেইন (প্রধান) ছিল তা কেউ জানে না। একজন আরেকজনকে চেনে না। পাশে হাঁটতে গেছে, আন্দোলনে গেছে, পাশের আরেকজন পড়ে গেছে, মনে করছে যে সে নরমাল পড়েছে, আসলে সে মারা গেছে। গুলিটা সামনে থেকে আসছে না পিছন থেকে আসছে, সেটাও জানে না। গুলির কোনো শব্দ হয় নাই। স্নাইপারের গুলি ছিল, অনেকেই যারা পড়ে গেছে।’

উপস্থাপিকার ‘জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ডিজাইন ছিল, কোনো ষড়যন্ত্র?’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘ডিজাইন তো অবশ্যই ছিল তবে ষড়যন্ত্র ছিল কিনা তা জানি না। এটাও সত্যি, শুধুমাত্র যারা আন্দোলনে ছিল (আন্দোলন) যে কেবল তাদের হাতেই ছিল তা কিন্তু না। অনেক কিছু না জেনে তারা আবেগে এসেছিল, অন্যায়ের প্রতিবাদে এসেছিল। তারা একজন আরেকজনকে চিনে না।’

নিলোফার চৌধুরী মনির এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এমনকি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবও এক ফেসবুক পোস্টে তার বক্তব্যকে ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ করার কথা জানান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *