মানুষের জীবন সুখ-দুঃখের এক মিশ্রণ। কখনো আনন্দ, আবার কখনো কঠিন বিপদ, দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা মানুষকে অসহায় করে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের একমাত্র ভরসা আল্লাহ তায়ালা। বিপদ যতই বড় হোক না কেন, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বিশাল। তাই হতাশ না হয়ে ধৈর্য, তাওবা, দোয়া এবং ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়াই ইসলামের শিক্ষা।
সম্প্রতি এক ইউটিউব আলোচনায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ কঠিন বিপদের সময় ৪টি গুরুত্বপূর্ণ আমল নিয়মিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, অনেকেই এই আমলগুলো করে উপকৃত হয়েছেন। তবে তিনি এও স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিপদ সঙ্গে সঙ্গে দূর না হলেও হতাশ হওয়া যাবে না। কারণ, অনেক সময় আমলের ঘাটতি থাকতে পারে, আবার কখনো আল্লাহ বিপদের মধ্যেই বান্দার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করে রাখেন।
১. বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন
বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা বা জীবনের জটিল মুহূর্তে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। ইস্তিগফার কেবল গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়, এটি রিজিক বৃদ্ধি, সংকট দূরীকরণ এবং অন্তরে প্রশান্তি লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। পবিত্র কুরআনে সুরা নূহের ১০-১২ আয়াতে বলা হয়েছে, “আমি বলেছিলাম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন।”
হাদিসে পাকে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তার প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ বের করে দেন, প্রতিটি সংকট থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করে দেন এবং এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” (আবু দাউদ ১৫১৮)
তাই বেশি বেশি পড়ুন: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ অথবা ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি’।
২. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করুন
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা মুমিনের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত এবং আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম। পবিত্র কুরআনে সুরা আল-আহযাবের ৫৬ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তার প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করো।”
হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত বর্ষণ করেন।” (মুসলিম ৪০৮)
দরুদ শরিফ হলো: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহহিমা, ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।’
৩. দোয়া ইউনুস বেশি বেশি পড়ুন
সংকট, দুশ্চিন্তা ও বিপদের সময় হজরত ইউনুস (আ.)-এর এই দোয়াটি পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। পবিত্র কুরআনে সুরা আল-আম্বিয়ার ৮৭ আয়াতে এই দোয়াটি উল্লেখ করা হয়েছে: “লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বলিমিন।” এর অর্থ: “আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।”
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি কোনো বিষয়ে এই দোয়া করে, আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করেন।” (তিরমিজি ৩৫০৫)
৪. ‘ইয়া জাল-ঝালালি ওয়াল ইকরাম’ বেশি বেশি পড়ুন
আল্লাহর এই মহান নামটি বেশি বেশি জিকির করার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) উৎসাহ দিয়েছেন। এই দোয়াটি হলো: ‘ইয়া জাল-ঝালালি ওয়াল ইকরাম’। এর অর্থ: ‘হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী’। কঠিন সময়ে এই দোয়াটি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে বেশি বেশি পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত।




