বিশ্বকাপের উন্মাদনা: বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য, অস্ট্রেলিয়ায় নীরবতা
নিজস্ব প্রতিবেদক:বাংলার কণ্ঠ
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলে বাংলাদেশ কখনো অংশগ্রহণ না করলেও, বিশ্বকাপ এলেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো যেন রূপ নেয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে পতাকা টানানো, জার্সি পরা, ম্যাচ বিশ্লেষণ, আড্ডা আর বন্ধুদের মধ্যে সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে আনন্দঘন খুনসুটি, বড় পর্দায় খেলা দেখা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব উপস্থিতি ক্যাম্পাসজীবনে এনে দেয় ভিন্ন মাত্রা।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী দেশ অস্ট্রেলিয়ায় চিত্রটি অনেকটাই ভিন্ন। সিডনিসহ বিভিন্ন শহরের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপ উপলক্ষে তেমন কোনো উৎসবমুখর পরিবেশ চোখে পড়ে না। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত থাকায় ফুটবল নিয়ে প্রকাশ্য উচ্ছ্বাস তুলনামূলকভাবে সীমিত।
বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেট, রাগবি ও অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেশি হওয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আবেগ বাংলাদেশের মতো তীব্র নয়। অপরদিকে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করেও বাংলাদেশে ফুটবল একটি আবেগের নাম, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।
বিশ্বকাপের ট্রফি হয়তো এখনো বাংলাদেশের নাগালের বাইরে, কিন্তু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বকাপকে ঘিরে মানুষের উন্মাদনা প্রমাণ করে—খেলায় অংশগ্রহণের চেয়েও বড় বিষয় হলো খেলাটির প্রতি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার রঙেই বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো হয়ে ওঠে এক টুকরো বৈশ্বিক মিলনমেলা।




