পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সদস্য জয়া বচ্চনের কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আগমন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই সাক্ষাৎ এমন এক সময়ে হলো, যখন সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা কিরণময় নন্দ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী পরাজয় নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকালে বৃষ্টির মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েনের সঙ্গে জয়া বচ্চন কালীঘাটে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এবং এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও চলছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
তবে পরবর্তীতে সমাজবাদী পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা কিরণময় নন্দ প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন যে, জনগণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চায়নি বলেই তিনি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তিনি এও ইঙ্গিত দেন যে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় নেতাদের কিছু বক্তব্য দিতে হয়। এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
কিন্তু জয়া বচ্চনের সাম্প্রতিক এই সফর সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী জোটের বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সৌজন্যমূলক যোগাযোগ যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, জয়া বচ্চনের এই সাক্ষাৎ তারই ইঙ্গিত বহন করতে পারে। যদিও বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না আসায় এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না, তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সাক্ষাৎকে ঘিরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকের মতে, ভবিষ্যতে বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ নির্ধারণে এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




