বিশেষ করে বিয়ের মতো অনুষ্ঠানে অনেক কনেই দীর্ঘ সময় ধরে ভারী মেকআপ ও সাজসজ্জা করে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে, মেকআপ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অজু না করে তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করা কি শরীয়তসম্মত?
তায়াম্মুমের শর্তাবলী
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, অজুর বিকল্প হিসেবে তায়াম্মুম করার জন্য সুনির্দিষ্ট ও শরীয়তসম্মত ওজর বা কারণ থাকতে হবে। যেমন, পানি না পাওয়া, অথবা পানি ব্যবহার করলে রোগ বৃদ্ধি, প্রাণহানি বা অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকা।
মেকআপের ক্ষেত্রে বিধান
শুধু মেকআপ, সাজসজ্জা বা প্রসাধনী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তায়াম্মুমের বৈধ কারণ হিসেবে বিবেচিত নয়। ফকিহদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মেকআপ নষ্ট হওয়ার ভয় শরীয়তের দৃষ্টিতে তায়াম্মুমের বৈধ ওজর নয়। তাই এমন অবস্থায় তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করলে তা বৈধ হবে না এবং পবিত্রতাও অর্জিত হবে না।
কুরআনের নির্দেশনা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সূরা আন-নিসার ৪৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর। তারপর তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অতিশয় ক্ষমাকারী।”
একইভাবে সূরা আল-মায়িদার ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আর যদি তোমরা অসুস্থ হও, কিংবা সফরে থাক, অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে, কিংবা স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস কর এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর।”
হাদিসের নির্দেশনা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সমগ্র পৃথিবীকে আমার জন্য নামাজের স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম (তায়াম্মুমের উপকরণ) করা হয়েছে।” (বুখারি ৩৩৫, মুসলিম ৫২১)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, তায়াম্মুম আল্লাহর দেওয়া একটি বিশেষ ছাড়, যা কেবল প্রয়োজনের সময়ই গ্রহণ করা যাবে।
ফকিহদের ব্যাখ্যা
প্রখ্যাত মুফাসসির ইমাম কুরতুবী (রহ.) তার তাফসিরুল কুরতুবী-তে উল্লেখ করেছেন যে, পানি উপস্থিত থাকলে তায়াম্মুম বৈধ নয়। তবে পানি ব্যবহার করলে রোগ বৃদ্ধি, প্রাণহানি বা অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকলে তায়াম্মুম করা জায়েজ হবে।
উপসংহার
অতএব, মেকআপ বা সাজসজ্জা নষ্ট হওয়ার ভয় শরীয়তের দৃষ্টিতে তায়াম্মুমের বৈধ ওজর নয়। বিয়ের কনের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। যদি কেউ এমন কারণে অজুর পরিবর্তে তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করে থাকেন, তাহলে সঠিকভাবে অজু করে ওই নামাজ কাজা আদায় করতে হবে। ইসলাম মানুষের জন্য সহজ বিধান দিয়েছে, তবে সেই সহজতা নির্ধারিত সীমার মধ্যেই। একজন মুসলিমের জন্য আল্লাহর বিধান ও ইবাদতের শুদ্ধতাই সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাওয়া উচিত।




