বিএনপি নেতা রাশেদ খান সম্প্রতি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন যে, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম সরাসরি কোনো দুর্নীতি বা তদবির বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন না। তবে, তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই দুজন গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের মতো ব্যক্তিদের ব্যবহার করে বিভিন্ন তদবির ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।
রাশেদ খানের পোস্ট অনুসারে, গণঅভ্যুত্থানের পর ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় কেলেঙ্কারি ঘটেছিল। সে সময় যুগ্ম সচিব কেএম আলী আজম এবং নিজেকে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দেওয়া গাজী সালাউদ্দীন তানভীর সচিবালয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত ডিসির তালিকা প্রস্তুত করতেন। রাশেদ দাবি করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমই তানভীরকে এই কাজের জন্য সচিবালয়ে পাঠিয়েছিলেন, কারণ সে সময় তারা মন্ত্রীদের চেয়েও ক্ষমতাধর ছিলেন।
২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাজী সালাউদ্দীন তানভীর নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের পরামর্শেই তিনি সচিবালয়ে এসেছিলেন। তিনি ডিসির তালিকা প্রস্তুত করার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা স্বীকার করে বলেছিলেন যে, প্রশাসনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাদের পর্যবেক্ষণ করার অধিকার আছে। একই প্রক্রিয়ায় এনসিটিবিতেও হাসনাত ও সারজিস তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলে রাশেদ উল্লেখ করেন। এনসিটিবিতে বই ছাপাতে কাগজ কেনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
রাশেদ খান প্রশ্ন তুলেছেন, ডিসি নিয়োগ কেলেঙ্কারির পরও কেন গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে এনসিটিবিতে দায়িত্ব দেওয়া হলো? তিনি আরও জানতে চেয়েছেন, তানভীর যখন ছাত্র সমন্বয়ক ছিলেন না, তখন কারা তাকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে ঢোকার ক্ষমতা দিয়েছিল? এছাড়া, ভুয়া সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করার শাস্তি না দিয়ে কেন তাকে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের একটি অংশের দ্বারা গঠিত দলে যুগ্ম সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলো, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। রাশেদের মতে, এই নিয়োগের পেছনেও হাসনাত ও সারজিসের ভূমিকা ছিল।
দুদকের ভূমিকা নিয়েও রাশেদ প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার ২০২৬ সালের ৩ মার্চ পদত্যাগ করেন। এর আগে, ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক আদালতে তানভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, যার ফলে আদালত তাকে দায়মুক্তি দেয়। রাশেদের দাবি, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত দুদক কর্মকর্তারাই তানভীরকে এই দায়মুক্তি দেন।
রাশেদ খান স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম হঠাৎ দুদকের চেয়ারম্যান আবদুল মোমেনের সঙ্গে অতিগোপনীয় বৈঠক করেন। সে সময় তারা গণমাধ্যম এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। রাশেদের অভিযোগ, এই ‘অতিগোপনীয় অভিযোগ’ দাখিলের আড়ালে মূলত গাজী সালাউদ্দীন তানভীরসহ বিভিন্ন উপদেষ্টার এপিএস ও পিওদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো রফাদফা করতেই তারা দুদকে গিয়েছিলেন।
রাশেদ খানের মতে, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম সরাসরি দুর্নীতি না করলেও, তানভীরের মতো ব্যক্তিদের মাধ্যমে এসব কাজ করিয়েছেন। তাই, তানভীরদের রক্ষা করতে না পারলে তারা নিজেরা ফেঁসে যাবেন, এই আশঙ্কায় তারা সবকিছু করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদায় নেওয়ার পর নির্বাচিত সরকার এলে, দুদকের কর্মকর্তারা পদত্যাগের আগে ক্লিন সার্টিফিকেট দিয়ে যেতে পারেন, যেন পরবর্তীতে বলা যায় নির্বাচিত সরকারই দায়মুক্তি দিয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক টিআইবির প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সুস্পষ্ট ঘুষ ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসায় নতুন করে সব তদন্তের দাবি উঠেছে।




