#ইসলাম

কাবা শরীফ তাওয়াফের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

কাবা শরীফের তাওয়াফ এক সুপ্রাচীন ইবাদত, যার ইতিহাস মানব সৃষ্টিরও পূর্বে বিস্তৃত। সৃষ্টির আদিতে পৃথিবীতে জিন জাতির বসবাস ছিল। দীর্ঘকাল ধরে তারা পৃথিবীতে অবস্থান করলেও আল্লাহর ইবাদতের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও বিশৃঙ্খলায় লিপ্ত হয়। ফলস্বরূপ, আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা জিনদের পাহাড় ও সমুদ্রাঞ্চলে বিতাড়িত করেন।

এরপর পৃথিবীতে ফেরেশতাদের বিচরণ শুরু হয়। সপ্তম আকাশে ফেরেশতারা নিয়মিত বাইতুল মামুর তাওয়াফ করে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা এই বাইতুল মামুর তাওয়াফ করেন এবং একবার তাওয়াফ করার পর পুনরায় সেখানে ফিরে আসার সুযোগ পান না। মিরাজের রাতে নবী করিম (সা.) বাইতুল মামুরে ইবরাহিম (আ.)-কে দেখতে পান, যিনি সেখানে পিঠ ঠেকিয়ে বসেছিলেন।

পৃথিবীতে এসে ফেরেশতাদের মনে আল্লাহর ঘর তাওয়াফের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়। তখন আল্লাহর নির্দেশে তারা বাইতুল মামুরের ঠিক নিচে পৃথিবীতে একটি ঘর নির্মাণ করেন এবং তারাই সর্বপ্রথম সেই ঘরের তাওয়াফ করেন।

পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা যখন মানব সৃষ্টির ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তখন ফেরেশতারা জিন জাতির পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে প্রশ্ন করেন যে, তিনি কি এমন জাতি সৃষ্টি করবেন যারা পৃথিবীতে অশান্তি ও রক্তপাত ঘটাবে? উত্তরে আল্লাহ বলেন, “আমি যা জানি, তোমরা তা জান না।” এরপর আদি মানব আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। তিনি পুনরায় কাবা গৃহ নির্মাণ করেন এবং তাওয়াফ করেন।

পৃথিবীতে আগমনের পর ফেরেশতাদের সাথে আদম (আ.)-এর সাক্ষাৎ হলে তারা বলেন, “হে আদম! আপনার হজ কবুল হোক। আমরা আপনার আগমনের দুই হাজার বছর পূর্ব থেকেই এই ঘরের হজ ও তাওয়াফ করে আসছি।” এভাবেই ফেরেশতারা, আদম (আ.) এবং তাঁর বংশধররা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ঘরের তাওয়াফ অব্যাহত রেখেছেন।

পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, ইবরাহিম (আ.) তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে সঙ্গে নিয়ে কাবা শরীফের ভিত্তি পুনঃস্থাপন করেন এবং আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন। ইবরাহিম (আ.)-এর পর বিভিন্ন সময়ে মূর্তিপূজা ও শিরকের মতো ভ্রান্ত বিশ্বাস বিস্তার লাভ করলেও, আজ পর্যন্ত কাবা গৃহের তাওয়াফ এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি।

উল্লেখ্য, এই ঐতিহাসিক তথ্যসমূহ সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিস নয়, বরং ঐতিহাসিক বর্ণনা এবং সাহাবায়ে কিরামের আছারের ভিত্তিতে সংকলিত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *