বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার জাঁকজমকপূর্ণ গালা ডিনার ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত :
বাংলার কণ্ঠ : বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া নতুন উদ্যমে পথচলার সূচনা উপলক্ষে গত ১৯ জুলাই ২০২৬ (রবিবার) সিডনির মিন্টোস্থ সিসড্যাক মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য গালা ডিনার ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে। প্রবাসী বাংলাদেশি এবং অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র আল-কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়, যা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। পরে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে দুই দেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের আন্তরিক অভ্যর্থনা ও মুখরোচক অন-ট্রে পরিবেশনের মাধ্যমে আপ্যায়ন করা হয়। কানায় কানায় পূর্ণ মিলনায়তনে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মনিরুল হক জর্জ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জুঁই সেন পল ও তিসা তানিয়া।

সভাপতির বক্তব্যে মনিরুল হক জর্জ বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য সুদৃঢ় করা, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরতে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউ সাউথ ওয়েলসের ৪৭তম প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স এমপি। তিনি বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিটির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়া গঠনে বাংলাদেশি সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়েট এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল ডেলি এমপি, হিউজেসের ফেডারেল সদস্য ডেভিড মনক্রিফ এমপি, লেপিংটনের সদস্য নাথান হ্যাগার্টি এমপি এবং ক্যাম্পবেলটাউন সিটির মেয়র ডার্সি লাউন্ড। বক্তারা বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিটির ঐক্য, সম্প্রীতি ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গঠনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, ইব্রাহিম খলিল মাসুদ, আশিকুর রহমান অ্যাশ এবং ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর এলিজা আজাদ।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন অতিথি, পৃষ্ঠপোষক, শিল্পী, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক এবং উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সফলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য তিনি এসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান চৌধুরী সুমন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রকাশনা ‘চলন্তিকা’ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

পরে বিশেষ অতিথি, পৃষ্ঠপোষক ও বিভিন্ন সহযোগীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং সবাইকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান।
নৈশভোজের পর শুরু হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একক নৃত্যের মাধ্যমে মঞ্চ মাতান অর্পিতা সোম, এরপর পরিবেশনা করে অর্পিতা সোম ড্যান্স গ্রুপ। নাট্যকার বেলাল হোসেন ঢালী রচিত ও নির্দেশিত নাটক ‘প্রবাসীর পাংখা’ দর্শকদের মুগ্ধ করে। নাটকে অভিনয় করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা মাজনুন মিজান, জুঁই সেন পল ও তানিম মান্নান।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একক নৃত্য পরিবেশন করেন আদরিতা আকাশ। সংগীত পরিবেশন করেন মিতা আতিক, প্রয়াত অভিনেতা বুলবুল আহমেদ-এর কন্যা ঐন্দ্রিলা আহমেদ এবং চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠখ্যাত শিল্পী মেহেদী হাসান। পুরো অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপনা করেন পুরবী পারমিতা বোস ও কিশওয়ার আখতার কাকলী। প্রাণবন্ত পরিবেশনা ও বৈচিত্র্যময় আয়োজনে দর্শকরা উপভোগ করেন এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
প্রবাসে বাংলাদেশিদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়।




