ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে উপস্থিত থাকছেন না। যদিও চলতি মাসের শুরুতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে, বিহারের গভর্নর জেনারেল সৈয়দ হাসনাইন এবং ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধি দল এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবে বলে জানা গেছে।
ইরানের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এই শিয়া নেতা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রথম দিনে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ৯ জুলাই পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠান চলবে। এর অংশ হিসেবে ৭ জুলাই পবিত্র কোয়ম নগরীতে বিশেষ ধর্মীয় আচার ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই ছয় দিনের কর্মসূচিতে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেবেন। এর ফলে, এটি বিশ্ব রাজনীতিতে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ঘটনায় পরিণত হবে।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যুদ্ধকালীন তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও, ভারত ও ইরান তাদের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছে। এই সংকটময় সময়ে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একাধিকবার ফোনালাপ করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ভারত সফর করেন এবং কয়েক সপ্তাহ আগেও ইরানের অন্যান্য প্রতিনিধিরা ভারতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ভারতের এই প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত তেহরানের সাথে নয়াদিল্লির নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক সম্পর্কেরই প্রতিফলন।




