বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সমাজে ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে তরুণ আইনজীবীদের এই দায়িত্ব নিতে হবে। বুধবার (১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীকে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রিজভী তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ন্যায়বিচার সম্পর্কে যে ধারণা রয়েছে, তা সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আদালতের রায় আসতো, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে ন্যায়বিচারকে তার নিজস্ব পথে নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বরেণ্য আইনজীবীরাও শেখ হাসিনার ‘বিষাক্ত ছোবল’ থেকে মুক্তি পাননি। আইনজীবীরা গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে কাজ করেছেন এবং তাদের সক্রিয় উপস্থিতি ছাড়া শেখ হাসিনাকে দুর্বল করা সম্ভব হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং তার প্রতিটি কাজের মধ্যে আইনের শাসনের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ছাড়া আইনের শাসন আশা করা যায় না। একটি দেশের পরিস্থিতি তার বিচার ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। বিচার বিভাগ স্বাধীন ও দুর্নীতিমুক্ত থাকলে দেশ এগিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি দেশের বিচার বিভাগ, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবে।
বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল বর্তমান সরকারের সামনে দুর্গম পথের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি আসলাম চৌধুরীর ঘটনা উল্লেখ করেন, যেখানে সরকারি দলের এমপি হয়েও তিনি শপথ নিতে পারেননি এবং সরকার এ নিয়ে কোনো সমালোচনা করেনি। তার মতে, এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতারই প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, যদি দেড় বছর আগে এমন ঘটনা ঘটতো, তাহলে আপিল বিভাগের সবাইকে দেশ ছাড়তে হতো।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবু জাফর খান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. রইস উদ্দিন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজক সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




