জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার এসপিকে আন্দোলনকারীদের তালিকা তৈরি, আটক ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়া (তৃতীয় অভিযোগ), ১৪ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ (ষষ্ঠ অভিযোগ) এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার (সপ্তম অভিযোগ) দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক অ্যাখ্যা দেওয়া, ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মারণাস্ত্র ব্যবহার ও বম্বিংয়ের পরিকল্পনা, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশসহ মোট পাঁচটি অভিযোগ (১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর) থেকে আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার সময় হাসানুল হক ইনু কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায়ের আগে তিনি পুলিশ সদস্যদের হাত ধরতে নিষেধ করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি ষষ্ঠ মামলার রায়। এই রায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।




