বাংলার কণ্ঠ, সিডনী: নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্টজনিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মিলনায়তনে “নিরাপদ বিদ্যুৎ চাই, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দুর্ঘটনারোধে করণীয়” শীর্ষক এক সাংবাদিক সম্মেলন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বিশিষ্ট প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল হুদা সরকার (রাজু)। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ প্রকৌশলী, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হুদা বলেন, বিদ্যুৎ আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অংশ হলেও অসচেতনতা, ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ, মানহীন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার এবং নিরাপত্তা বিধি অমান্যের কারণে প্রতিবছর বহু মানুষ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে প্রথমেই বিদ্যুতের মূল সংযোগ বা মেইন সুইচ বন্ধ করতে হবে। এরপর শুকনো কাঠ, বাঁশ বা প্লাস্টিকের মতো অপরিবাহী বস্তু ব্যবহার করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদে বিদ্যুতের উৎস থেকে সরিয়ে নিতে হবে। খালি হাতে বা ভেজা কাপড় দিয়ে স্পর্শ করলে উদ্ধারকারীও দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।
তিনি আরও জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন দ্রুত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে সিপিআর (CPR) প্রদান করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ভেজা হাতে বা খালি পায়ে বৈদ্যুতিক সুইচ, সকেট কিংবা যন্ত্রপাতি স্পর্শ না করার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি বাথরুম, রান্নাঘর ও অন্যান্য স্যাঁতসেঁতে স্থানে গ্রাউন্ড ফল্ট সার্কিট ইন্টারাপ্টার (GFCI) ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টজনিত দুর্ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি একটি জাতীয় জননিরাপত্তা ইস্যু। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, আবাসিক ভবন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক প্রচার এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
বক্তারা আরও বলেন, “সচেতনতাই পারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টজনিত দুর্ঘটনা ও অকাল মৃত্যুর হার কমাতে।” নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সরকার, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দেশব্যাপী গণসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহারে জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।




