#বাণিজ্য

কেন বাতিল করা হয় ব্যাংক নোট: অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। যদিও সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং নোট দুটি পূর্বের মতোই বৈধ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাংক নোট বাতিলের ইতিহাস রয়েছে, এমনকি বাংলাদেশেও অতীতে এমন নজির দেখা গেছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ব্যাংক নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সাধারণত অস্বাভাবিক বা বিশেষ পরিস্থিতিতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

কেন বাতিল করা হয় ব্যাংক নোট?

অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন কারণে ব্যাংক নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর প্রধান কারণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. কালো টাকার নিয়ন্ত্রণ

কালো টাকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে সেটিকে ব্যাংকিং খাতে ফিরিয়ে আনা ব্যাংক নোট বাতিলের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, যদি সরকার মনে করে যে দেশে কালো টাকার পরিমাণ অনেক বেশি এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে নগদ অর্থ জমা আছে, তখন কালো টাকার প্রভাব কমিয়ে সেটিকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আনতে নোট বাতিল করা হয়।

কালো টাকা বলতে মূলত আয়করের হিসাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কর ফাঁকি দেওয়া টাকাকে বোঝায়। ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ যেমন অবৈধ, তেমনি সৎ পথে উপার্জিত অর্থও যদি আয়ের হিসাবে না দেখানো হয় বা কর না দেওয়া হয়, তবে সেটিও অর্থনীতিতে কালো টাকা হিসেবে বিবেচিত হয়।

২. জাল নোট প্রতিরোধ

কালো টাকার পাশাপাশি জাল নোটের প্রসার ঠেকাতেও অনেক সময় ব্যাংক নোট বা মুদ্রা বাতিল করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে সারা দেশে জাল টাকার দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় তৎকালীন সরকার জলছাপবিহীন একাধিক ব্যাংক নোট বাতিল ঘোষণা করেছিল।

৩. দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন

দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন বন্ধ করতেও সরকার মুদ্রা বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে ভারত সরকার যে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল করেছিল, তার পেছনেও দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্য কাজ করেছিল বলে জানা যায়।

৪. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন

একটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটলেও অনেক সময় আগের মুদ্রা বাতিল করে নতুন মুদ্রা প্রচলনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

নোট বাতিলের প্রক্রিয়া

সাধারণত, যখন কোনো ব্যাংক নোট বাতিল করা হয়, তখন বাতিল হতে যাওয়া নোটগুলো ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এমন সিদ্ধান্ত অর্থনীতির ওপর বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *