#খেলা #বাংলাদেশ #সর্বশেষ খবর

ব্যাটিং বিপর্যয়ে ভারতের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

বাংলার কন্ঠঃ নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, টুর্নামেন্টে অপরাজিত দল—ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েই ছিল বাংলাদেশের মূল দুশ্চিন্তা। তবে বোলাররা সেই কাজ সহজ করে দিয়েছিলেন। ভারতকে আটকে রাখেন মাত্র ১৬৮ রানে। কিন্তু মরুর বুকে সেই রান তাড়া করতে গিয়েই ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় লাল-সবুজের দল হেরে গেল ৪১ রানে।

এই হারে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ এখন একেবারেই পরিষ্কার। সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারালেই দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে উঠবে স্টিভ রোডসের শিষ্যরা। আর হারলেই বিদায় নিতে হবে দেশে ফিরে

বুধবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলীয় ৪ রানে ফিরতে হয় ওপেনার তানজিদ তামিমকে। পরে পারভেজ ইমনকে নিয়ে পাওয়ার প্লে সামলানোর চেষ্টা করেন সাইফ হাসান। সপ্তম ওভারে কুলদিপ যাদব ভেঙে দেন এই জুটি। জাসপ্রিত বুমরাহকে ছক্কা হাঁকানো ইমন ফেরেন ২১ রানে, স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে।

এরপর শুধু হতাশাই উপহার দেয় বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন ও জাকের আলি কেউই দাঁড়াতে পারেননি—তাদের তিনজনেরই স্কোর ১০-এর নিচে। শামীম তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি।

কেবল সাইফ হাসান লড়াই চালিয়ে যান একপ্রান্তে। সাহসী ব্যাটিংয়ে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ বলে ৬৯ রান করেন তিনি। তবে ইমন ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে না পারায় বৃথাই যায় তার ইনিংস।

এর আগে টস জিতে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশ প্রথম তিন ওভারে ভারতকে চাপে রেখেছিল। ওপেনার অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিল মিলে নেন মাত্র ১৭ রান। তানজিম সাকিব ও নাসুম আহমেদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বস্তিতে ছিল টাইগাররা।

কিন্তু এরপরই চিত্র পাল্টে যায়। ধীরে শুরু করা ভারত পাওয়ার প্লের বাকি চার ওভারে চালায় তাণ্ডব। নাসুমের দ্বিতীয় ওভারেই আসে ২১ রান। প্রথম ছয় ওভারে বিনা উইকেটে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭২।

সেখান থেকেই দলকে ম্যাচে ফেরান লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। সপ্তম ওভারে শুভমান গিলকে (১৯ বলে ২৯) ক্যাচ আউট করান তিনি। নিজের পরের ওভারে ফেরান শিবম দুবেকে (২)।

অভিষেক শর্মা অবশ্য স্রোতের বিপরীতে খেলছিলেন দুর্দান্ত ইনিংস। ১২তম ওভারে রানআউট হওয়ার আগে ৩৭ বলে ৭৫ রান করে দলকে মজবুত ভিত গড়ে দেন তিনি। ১১২ রানে ভারতের তৃতীয় উইকেট পড়লেও একই ওভারে সূর্যকুমার যাদবকেও (০) ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান।

মোস্তাফিজ সেই উইকেটের সঙ্গে গড়েন নতুন ইতিহাস—টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৫০ উইকেট। তার কাটারে জোড়া ধাক্কা খেয়ে দলীয় ১২৯ রানে ফেরেন তিলক ভার্মা।

শেষ দিকে খানিকটা ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া। ২৮ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত থেকে ভারতের ইনিংস থামান ১৬৮ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে রিশাদ হোসেন ২৭ রানে সর্বোচ্চ দুই উইকেট নেন। একটি করে উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান ও তানজিম সাকিব।