চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে চিরুনি অভিযান পরিচালনারও আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে রাঙ্গুনিয়ায় নিহত মাসুদের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমাম কাদের চৌধুরী এসব কথা বলেন। এ সময় তার স্ত্রী সামানজার খান উপস্থিত ছিলেন।
হুমাম কাদের চৌধুরী অভিযোগ করেন, মাসুদ অবৈধ বালু উত্তোলন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার মতে, হত্যাকাণ্ডের অর্থদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা জরুরি। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি একটি স্থায়ী র্যাব ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানান হুমাম কাদের। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।
এর আগে হুমাম কাদের নিহত মাসুদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন, তার চার বছর বয়সী কন্যা সন্তানের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে তিনি মাসুদের কবর জিয়ারত করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় এ পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান রয়েছে।




