#বাণিজ্য

সেলাই মেশিন ক্রয়ে ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ: মহিলাদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ

অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সেলাই মেশিন ক্রয়ের জন্য ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জাতীয় সংসদে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সেলাই মেশিন ক্রয়ের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে এসব মেশিন বিতরণ করা হবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

একই অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০২৬ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস হয়েছে, যার আওতায় শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলার বিচার পরিচালিত হবে। এছাড়াও, ডিএনএ আইন, ২০১৪ অনুযায়ী অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর সম্মতি নির্বিশেষে ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের সমন্বিত সেবা প্রদানের জন্য দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী টোল-ফ্রি ন্যাশনাল হেল্পলাইন-১০৯ চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, নড়াইল-১ আসনের সংসদ-সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, বর্তমানে সরকারিভাবে কোনো পাটকল চালু নেই। ফলে সরকারি উদ্যোগে নতুন কোনো পাটক্রয় ও সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ১৪টি মিল ইজারা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি চালু হয়েছে। বাকি ৬টি মিলের ইজারা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুস সালামের প্রশ্নের উত্তরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী দেশের বস্ত্রশিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বস্ত্রশিল্প দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি মিটার বস্ত্রের চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে ৪০০ কোটি মিটার ওভেন কাপড় এবং ৪০০ কোটি মিটার নিট কাপড়।

মন্ত্রী জানান, দেশের মিলগুলো নিট খাতে মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ এবং ওভেন খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করছে। এছাড়াও, হস্তচালিত তাঁতশিল্প বছরে ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার মিটার কাপড় উৎপাদন করে, যা দেশের মোট বস্ত্র চাহিদার প্রায় ২৮ শতাংশ পূরণ করে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *