যুক্তরাষ্ট্রে রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহনের কারণে সৃষ্ট দূষণ যে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ, এই নতুন গবেষণাটি সে বিষয়ে সর্বশেষ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ২০২৪ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে সড়কের দূষণের কারণে ৪১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের অকালমৃত্যু ঘটেছে। নিউইয়র্ক সিটি এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস অ্যালায়েন্সের পরিবহণ পরিকল্পনাবিদ পল জোন্স থ্রি মন্তব্য করেছেন, “পরিবহণ খাতের ক্ষতিকর নির্গমন আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্য এবং আমরা যে সম্প্রদায়গুলোতে বাস করি, তার নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।”
অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশন’ (আইসিসিটি) এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘ফিয়া ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে এই বিশ্লেষণটি পরিচালনা করেছে। সেন্সরের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তারা গাড়ি উৎপাদনের জ্বালানি ও এর ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট দূষণের পরিমাণ নির্ধারণ করে এবং প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে এর স্বাস্থ্যগত প্রভাবের হিসাব বের করে।
বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সংখ্যক নাগরিক উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন। আইসিসিটির জ্যেষ্ঠ গবেষক লিংঝি জিন এক বিবৃতিতে বলেন, “এমন এক সময়ে যখন অনেক আমেরিকান তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশের বিষাক্ত উপাদানের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে মৃত্যুহার এবং শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর গাড়ির দূষণের প্রভাব উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।”
গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে: গাড়ির দূষণের কারণে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর শিশুদের হাঁপানিতে (অ্যাজমা) আক্রান্ত হওয়ার নতুন ঘটনা সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী গাড়ির দূষণজনিত কারণে শিশুদের হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রতি ১০টি নতুন ঘটনার মধ্যে একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।
গবেষকেরা বলছেন, শূন্য নির্গমনের (জিরো-এমিশন) বা পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে নীতিনির্ধারকেরা এই ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে পারেন। গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, ২০৪০ সালের মধ্যে যদি বৈদ্যুতিক গাড়ি, ট্রাক এবং বাসের বাজার শতভাগ নিশ্চিত করা যায়, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে বর্তমান হারের তুলনায় ১ লাখেরও বেশি অকালমৃত্যু এড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ৪২ হাজারেরও বেশি শিশুকে হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, জাতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ভুল পথে এগোচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন পরিবেশবিষয়ক ব্যাপক সুরক্ষানীতি বাতিল করছে এবং পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাগুলোও প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।
বিষাক্ত বাতাসের বিপদ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ সতর্কবার্তার তালিকায় এটি সর্বশেষ সংযোজন। গত বছর ‘আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন’ জানিয়েছিল, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান বিপজ্জনক মাত্রায় দূষিত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন—যা তার আগের বছরের তুলনায় বেশি ছিল।




