ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। গত ২১ জুন থেকে এ পর্যন্ত মহাদেশটিতে ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ফ্রান্সে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ, যা গত ২৪ জুন থেকে শুরু হওয়া তীব্র তাপপ্রবাহের ফল।
ফ্রান্সের জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবিবার (২৮ জুন) প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। আনাদোলু সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, সংস্থাটি জানিয়েছে যে, তথ্যগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও তাপপ্রবাহ চলাকালে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অতিরিক্ত মৃত্যুর বেশিরভাগই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ঘটেছে। একইসাথে, বাড়িতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট সতর্ক করে বলেছেন, যদিও কিছু এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে, তবে তাপপ্রবাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব এখনো শেষ হয়নি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দেশে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
রাজধানী প্যারিসের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা (সামু) জানিয়েছে, শনিবার তারা ৮০টি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যার মধ্যে ৩০ জন হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর আগের দিন শুক্রবার এই সংখ্যা ছিল ১০৯। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এই পরিসংখ্যান কেবল সামু-এর আওতায় আসা ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত করে এবং এটি প্যারিসের মোট মৃত্যুর পূর্ণ চিত্র নয়।
টানা ১১ দিন ধরে ফ্রান্সের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পর এই অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রবিবার কয়েকটি এলাকায় বজ্রঝড়ের কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও, তাপজনিত অসুস্থতা ও এর জটিলতায় হাসপাতালগুলো এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। কেরাউনোস আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার রাতে সারা দেশে ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে প্যারিস অঞ্চল এবং ও-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়েছে।
ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স সোমবারও প্যারিসসহ আশপাশের এলাকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলের মোট ২২টি বিভাগে কমলা সতর্কতা জারি রেখেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে বয়স্ক ও একাকী মানুষদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই তাপপ্রবাহে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো সামনে আসেনি।




