বিশ্বকাপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুপস্থিতি: ফাইনালের আগে কি দেখা যাবে?

চলমান ফিফা বিশ্বকাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি নিয়ে অনেকেরই প্রত্যাশা ছিল। তবে টুর্নামেন্টের অর্ধেক পথ অতিক্রম করার পরও তাকে কোনো ম্যাচে দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচের মধ্যে দুটি জিতে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিলেও, প্রেসিডেন্টের এই অনুপস্থিতি বিস্ময় তৈরি করেছে। কেন তিনি দূরে থাকছেন এবং ফাইনালের আগে কি তাকে মাঠে দেখা যাবে, তা নিয়ে বিবিসি স্পোর্ট একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে।

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল, তখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। শিকাগোর সোলজার ফিল্ডে তিনি স্বাগত ভাষণ দিয়েছিলেন। ৩২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, অথচ বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুপস্থিতি ক্লিনটনের সেই উপস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ফিফার টিকিট বিক্রির সাফল্যের প্রশংসা করে এটিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর আগে প্রস্তুতি পর্বেও তিনি বিশ্বকাপের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছ থেকে সংস্থার প্রথম ‘শান্তি পুরস্কার’ গ্রহণ করেন। ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও গড়ে উঠেছে, যেখানে ইনফান্তিনোকে হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো বাসভবনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প সুপার বোল, গত গ্রীষ্মের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং রাইডার কাপ গল্ফের মতো বড় ক্রীড়া আয়োজনে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। তবে ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচে তার অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সত্ত্বেও তিনি উপস্থিত হননি, তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেন।

ধারণা করা হয়, ট্রাম্প দুই দিন পর হোয়াইট হাউসের লনে তার ৮০তম জন্মদিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) ইভেন্টকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। সাধারণত আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা নিজ দেশের উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত থাকেন, যেমনটি দেখা গিয়েছিল কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষেত্রে।

রাজনৈতিক কৌশলী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মিডিয়া পরিচালক ফেদেরিকো দে জেসুসের মতে, এটি ট্রাম্পের চরিত্রের বাইরে নয়। তিনি বিবিসি স্পোর্টকে জানান, ইউএফসি এমন একটি খেলা যার সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া তিনি সাধারণত বড় ক্রীড়া আসরের ফাইনাল বা সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোতেই উপস্থিত হন। তাই বিশ্বকাপের ফাইনালেও তাকে দেখা যেতে পারে।

দে জেসুস আরও উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্ট ওবামা হলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একজন উদার আয়োজক ও কূটনীতিকের ভূমিকা পালন করতেন। তবে ট্রাম্প সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। উদাহরণস্বরূপ, তিনি গত মাসে নিজের বড় ছেলের বিয়েতেও যাননি, সরকারি দায়িত্বের কারণ দেখিয়ে। এছাড়া নিউইয়র্কে এনবিএ ফাইনালে দর্শকদের বিদ্রুপের মুখে পড়ার পর ট্রাম্প হয়তো কিছুটা সতর্ক হয়ে গেছেন। বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক দর্শকের উপস্থিতি বেশি থাকায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও তার বিবেচনায় থাকতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *