প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দেশের গণমাধ্যমগুলোকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম সম্প্রতি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করছে, যা একেবারেই অনুচিত।
ডা. জাহেদ উর রহমান গণমাধ্যমকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সংবাদ প্রচারে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তাদের এই কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার এখনই কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে না, তবে গণমাধ্যমগুলোকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতে চায়। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করার এই প্রবণতা চলতে থাকলে পরবর্তীতে আইনগত করণীয় ঠিক করা হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সবসময় গণমাধ্যমকে তার বন্ধু মনে করে। গণমাধ্যমের সমালোচনা ও জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত পরিমার্জন বা পরিবর্তন করে থাকে।
তিনি সাম্প্রতিক বাজেট ও ব্যাংকিং খাতের কিছু বিষয়ে গণমাধ্যমের সমালোচনার পর সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরেন। সরকার সবসময় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনা ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলে তিনি জানান।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ রয়েছে। যতদিন আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিচ্ছে, ততদিন আওয়ামী লীগ ‘রিফর্মড’ বা অন্য যেকোনো নামেই আসুক না কেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।
ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।




