বাংলার কন্ঠঃ নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্প্রতি বাংলাদেশের খ্যাত নামা আলেম শায়খ আহম্মাদউল্লাহ দু সপ্তাহ ব্যাপি অবস্থানকালে দুটি প্রগ্রাম করার জন্যে সিডনিতে এখন অবস্হান করছেন।জেনে আশ্বস্ত হবার কথা বাঙালি কমিউনিটিতে- দর্শনীয় ইসলামী বয়ান শুনার অনুষ্ঠানে টিকেট কেটে আজ প্রথম প্রগ্রামে ৯০০ জন উপস্থিত থাকবেন এবং সব টিকেট আগেই সোল্ড আউট হয়ে যায় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
এটাতে প্রমান করে সিডনীতে ইসলামী মুল্যবোধ এবং সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামের জ্ঞান পিপাসু অনেক মানুষের বসবাস ।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, সিডনির “ফজরগ্রুপের” আমন্ত্রনে তিনি সিডনীতে এসেছেন । এই ইসলামিক অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মধ্যে সিডনির নেতৃস্থানীয় বেক্তি বর্গ এবং ক্যাম্পেলটাউন অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত “ অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের” পুরাতন কমিটিতে কাজ করেছেন ও সম্প্রতি নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ কারীর অনেকেই আছেন, বিশেষ করে গত নির্বাচনে অনির্বাচিত প্যনেলের অনেকেই আয়োজক হিসাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নিয়মিত মুসল্লী আমাদেরকে জানায় যে, নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের নির্বাচনী ইস্তাহারে স্লোগান
ছিল “আমরা সবাই একসাথে কাজ করে আমাদের কমিউনিটির অগ্রগতি এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবো।”
কিন্তু শায়খ আহমদুল্লাহর সম্প্রতি সিডনি সফর কালিন সময়ের মধ্যে AMWC ভিজিট করার জন্য এখন পর্যন্ত কোন শিডিউল নাই।
মুসল্লিরা আমাদেরকে জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে না হউক, অনানুষ্ঠনিক ভাবে বা ওয়াক্তীয় নামাজে অথবা ছোট্ট চাচক্রের আয়োজনে জনাব শায়খ আহমদুল্লাহকে আপ্যয়িত করে উনাকে এই প্রতিষ্ঠান দেখানো যেতে পারত । বিদেশে বিভুইয়ে আমাদের ইসলামী চিন্তা চেতনা কতটা জটিল পথে এগিয়ে আজ এই পর্যায়ে আসতে পেরেছে তাঁকে জানানো যেতে পারত। এমনকি শায়খ আহমদুল্লাহ সাহেবের কোন পরামর্শ নেওয়া যেতো পারতো কি না ? এমন নানান প্রস্ন মুসল্লিরা আমাদেরকে করছেন।
জেনে অবাক হবেন, উনি বর্তমানে কেম্বেলটাউন এলাকায় এক হোটেলে অবস্থান করছেন।
উনার অবস্থানের স্থান থেকে সেন্টারের (AMWC)দূরত্ব মাত্র ৫ কিমি। এমনকি সোসাল মিডিয়া থেকে জানা যায়, গতকাল তিনি জুম্মার খুতবা দিয়েছেন এডমন্সন পার্ক মসজিদে যাহার দূরত্ব সেন্টারের চেয়ে ডাবল। তিনি লাকাম্বাতে পরিদর্শন করেছেন বলে জানা যায়।
সাধারনত আয়োজকরাই বিভিন্ন মসজিদ বা মাসালায় সিডিউলের জন্য আলোচনা করে থাকে। কিন্তু আমাদের জানা মতে এখন পর্যন্ত AMWC কমিটির কাছে আয়োজকদের কেউ শায়খ এর AMWC ভিজিট নিয়ে আলোচনা করেন নি ।
এখানে উল্লেখ্য যে, অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার সিডনির অন্যতম বৃহৎ ইসলামী প্রতিষ্ঠান । সর্বমোট ১৫০০ সদস্যসহ, ১১৫০ জন বাংলাদেশী অস্ট্রেলিয়ান এই প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য।
অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের মুসল্লিরা আয়োজকদের কাছে অনুরোধ জানান, জনাব শেখ আহমাদুল্লাহ সিডনি সফরকালীন সময়ে বাংলাদেশীদের নিজস্ব অনুদানে প্রতিষ্ঠিত অত্যন্ত সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দিত মনোরম পরিবেশে স্থাপিত কমিউনিটি সেন্টারটি (AMWC)প্রদর্শনের সুযোগ দিলে বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য অনেক গর্বের বিষয় হত । পাশাপাশি এই ইসলামিক স্কলার অতিথি বাংলাদেশী কমিউনিটি সম্বন্ধে অনেক সুন্দর একটি ধারণা নিয়ে যেতে পারতেন। বড় আকার না হলেও ছোট আকারে অনুষ্ঠান করা যেতে পারে বলেও তারা জানান। এমনকি এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হলেও তো তিনি আসতে পারেন বলে মুসল্লিরা মন্তব্য করেন।
তবে AMWC এর সকল মুসল্লী আশা করছেন, অতি দ্রুত আয়োজকরা এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। কেননা আয়োজকদের অধিকাংশই এই সেন্টারের আজীবন সদস্য ও এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়।
যদি তা নাই হয়, আমাদের সকলের জিজ্ঞাসা সেই সব ভাইদের কাছে – যারা দু সপ্তাহ আগে ও নির্বাচন ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন,সবাই এক সাথে মিলে কাজ করবেন। আমরা দেখছি ভূতপূর্ব ও বর্তমান পরাজিত প্যানেলের অনেক ভাই- শায়খ আহমাদউল্লাহর ২০ শে সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠানে এবং ২৬ শে সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠান সফল করার জন্য ফজর গ্রুপের পক্ষ হয়ে – অনেক পরিশ্রম করছেন । এমনকি জানা যায়, AMWC এর কমিটির অনুমোদন নিয়ে প্রতি শুক্রবার জুম্মা নামাজ শেষে শায়খ এর অনুষ্ঠান সফল করার জন্য AMWC সেন্টারে লিফলেট বিতরন করেন। যাতে দ্রুত টিকিট বিক্রির সফলতা আসে বলে জানা যায়।
সর্বশেষে, আয়োজকদের কাছে সকল মুসল্লীদের জিজ্ঞাসা ?
নির্বাচনের আগে যে ইস্তাহার দিয়েছিলেন-”” সবাই মিলে মিশে কাজ করবেন”, তাকি শুধু কথার কথা ছিল ? নাকি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কারনে এমন একজন নামী দামী ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহকে সকলের প্রান প্রীয় সেন্টারে ভিজিট করার জন্য অনুরোধ করছেন না ?
অন্যদিক নির্বাচনে আপনারা জয়লাভ করলে কি চিত্রটা উল্টা হইত না ? এমনটাও অনেকে মনে করছেন বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন।




