Sydney, Australia, Saturday, 23 September, 2017           www.banglarkantha.com          Your online magazine
For Study, Visit or Migrate to Australia please contact on +64430040490 or email at jibon67@yahoo.com
pancocon Office Professional Plus 2013 Key and Download URL will be send via Email within 8 hours. cheap office 2013 key

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ শ্রদ্ধা ও ইতিহাসের কলঙ্কময়, বেদনাবিধুর জেল হত্যা দিবস পালন করলো

 

তৈয়বুর রহমান টনি নিউইর্য়কঃ-

নভেম্বর মাস। এ মাসে একটা বিশেষ ঘটনা বাংলাদেশীদের জন্যে কষ্টের ও কলঙ্কের চিহ্ন হয়ে আছে তা হচ্ছে ৩রা নভেম্বর রক্তঝরা ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস। বাংলাদেশের রূপকারদের মধ্যে প্রধান ৫ জনকে ১৯৭৫ সালে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় -তাদের মধ্যে চারজনকে সভ্যতার নিয়মনীতি ও আইনের শাসনের চরম লংঘন করে জেলের ভিতর হত্যা করা হয়। নির্মম হত্যাকান্ডে নিহত চারজন হলেন: সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহম্মেদ, কামরুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলী।

কারাগারে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্হায় এই ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকান্ড পৃথীবির ইতিহাসে দ্বিতীয়টি আছে কিনা সন্দেহ।৭৫’র ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকারকে উৎখাতকারীদের ষড়যণ্ত্রে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর এই চার জাতীয় নেতাকে জেলের অন্ধ প্রকষ্টে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব শুন্য করার যে প্রয়াস ৭১’ পরাজিত শক্তি এবং দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা নিয়েছিল তার ফল আজকের এই বাংলাদেশ।আজকের এইদিনে জাতির এই সেরা সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি,সেই সাথে সকল অসুভ শক্তি পরাজিত হোক এই কামনা করছি  আজ ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস।usal_3_nove_Tony2015

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করেছে গতকাল। জাতির ইতিহাসে কলঙ্কময় ও বেদনাবিধুর দিন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ৩রা নভেম্বর এক আলোচনা সভা ও দোয়া মহাফিলের আয়োজন করেছে।

গতকাল ৩রা নভেম্বর, মঙ্গলবার ২০১৫, নিউইয়র্ক এর জ্যাকসন হাইটস্থ পালকি পাটি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমেদ, এম মনসুর আলী ও এ. এইচএম কামরুজ্জামান এর ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ইতিহাসের জঘন্যতম জেল হত্যা দিবস স্মরণে এক দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ বসারত আলী ও সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। পরবর্তিতে অনুষ্ঠানটি যৌথ ভাবে পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ ও মহিউদ্দিন দেওয়ান।Tony 3

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কোরান তেলোয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন মৌলানা মোঃ রহমত উল্ল্যাহ। তারপর ঘাতকদের হাতে শাহাদত বরণকারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা,  স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সবার আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্টদূত ও জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ.কে.আব্দুল মোমেন, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোরের সংসদ সদস্য জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুল, বিশেষ অতিথিবৃন্দ সহ সভাপতি আকতার হোসেন, মাহবুবুর রহমান, আবুল কাশেম, সামসুউদ্দিন আজাদ, লুৎফুর করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, আব্দুর রহিম বাদশা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, কোষাধক্ষ্য আবুল মানসুর খান, কুষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, সমাজ কল্যান সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, ইমিগ্রেশন সম্পাদক এডভোকেট আব্দুর রহমান মামুন, উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, সহ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, স্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কামাল আহমদ,মহিউদ্দিন মাহি, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সেলিনা মোমেন, কার্যকরী সদস্য আজিজুর রহমান সাবু, সোহরাব সরকার, মুজিবুল মাওলা, খুরশিদ খন্দকার, আনোয়ার হোসাইন, ব্রুকলীন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নজরুল, সিটি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম বাবু।Tony 1

সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন জেল হত্যা দিবসের গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচান করেন এবং আজ এই শোককে শক্তিতে পরিনত করে সকলকে সব ভেদাবেদ ভূলে গিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ আরওবলেন-“জাতীয় চার নেতা হত্যা ইতিহাসের এক কলংকজনক অধ্যায়। জাতিকে মেধা শূন্য করার জন্যই এটি ‘৭১ সালের পরাজিত শক্তির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খুনের নেপথ্যে অপশক্তির চিন্তা ছিল জাতীয় চার নেতা জীবিত থাকলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকেই যাবে। সে কারনেই চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি আরোও বলেন যে কারাগারে পৃথিবীর সব মানুষ নিশ্চিত নিরাপত্তা পায়, সেই কারাগারেই ঘাতকদল ভিতরে ঢুকে এই জাতীয় চার নেতাকে ব্রাশফায়ার করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেদিন জাতি হারিয়েছিল দেশের সূর্যসন্তানদের আর আমরা হারিয়েছি এই দেশের শ্রেষ্ট্র বীরদের।

আমরা এই চার নেতার জান্নাত কামনা করি। আল্লাহ যেন তাদের জান্নাতে প্রবেশ করেন সেই দোয়া করি। আর শহীদদের পরিবারের প্রতি রইল গভীরসমবেদনা।

Buy cheap Viagra online

Tony 2

প্রধান অতিথি ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন বলেন কোন ষড়যন্তই বাংলাদেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করতে পারবে না। আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের শক্তি ঐক্যবন্ধ থাকলে বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি তাহার দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে কাউকে কোন কষ্ট দিয়ে থাকলে সবাইকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ জানান।“বাঙালি জাতি, মানব সভ্যতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে বেদনাময় রক্তঝরা এক কলঙ্কময় দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। একাত্তরের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশ মাতৃকার সেরা সন্তান, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এই জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে ৭১’র পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এ ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল পুরো বিশ্ব। তিনি আরো বলেন এই সকল ঘাতকদের চলমান বিচার কার্য সচল রাখতে বর্তমান সরকারকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে এবং ঘাতকদের বিচার কার্য অব্যাহত রাখতে হবে”।

নাটোরের সংসদ সদস্য জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুল,বলেন-“বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ এ চার নেতাকে ১৯৭৫ সালের এ দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সদ্যস্বাধীন দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র তাদের হত্যা করে। এতোবড় নৃশংস ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নাই। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই সকল ঘাতকদের বিচার কার্য শুরু হয়েছে। এই বিচার প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি আরোও বলেন গ্রামীন ব্যাংক আমাদের দেশে কোনো সুফল বয়ে আনে নাই। বরং বাংলার মানুষ আরোও ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে। এই গ্রামীন ব্যাংক দেশের কাউকে স্বাবলম্বী করতে পারেনাই”।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ বসারত আলী সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সকলকে ঐক্যবন্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্হীত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ষ্টেট/সিটি আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ,ছাত্রলীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমীকলীগ, নবীন লীগ, প্রজন্মো লীগের নেতা কর্মীরা

পরিশেষে নৈশ ভোজের মধ্যেদিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

 

 

Shuvo Noboborsho

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য