Sydney, Australia, Saturday, 23 September, 2017           www.banglarkantha.com          Your online magazine
For Study, Visit or Migrate to Australia please contact on +64430040490 or email at jibon67@yahoo.com
pancocon Office Professional Plus 2013 Key and Download URL will be send via Email within 8 hours. cheap office 2013 key

মহান মে দিবস: বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায়

তৈয়বুর রহমান টনি নিউইয়র্কঃ-

Buy cheap Viagra online

আজ মহান মে দিবস। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে সারাবিশ্বে দিনটি পালিত-উদযাপিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ১৮৮৬ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে সমবেত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে ১০ জনের অধিক শ্রমিক নিহত ও অনেকে আহত হয়। শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশও নিহত হয়। এ নিয়ে মামলা হয়। বিচারে কয়েকজন শ্রমিকের ফাঁসির রায় হয় এবং তা কার্যকর করা হয়। শ্রমিক আন্দোলনের এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের স্মরণে পরে পহেলা মে’কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

এত বছরেও শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও মানবিক সুযোগ-সুবিধা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই একই সঙ্গে অধিকার আদায়ের আন্দোলনও চলছে। পহেলা মে আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমিকদের উজ্জীবিত হতে অনুপ্রাণিত করে। একই সঙ্গে তারা দিনটিকে উৎসবের দিন হিসেবে গণ্য করে। স্বীকার করতেই হবে, শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে অনেক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধাই অর্জিত হয়েছে। তারপর মজুরি বৈষম্য, নিয়মিত যথাসময়ে মজুরি প্রাপ্তি, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ এবং শ্রমক্ষেত্রে নিরাপত্তার সমস্যা এখনও রয়েছে। এ কারণে শ্রমিক অসন্তোষও আছে।a1st May মহান মে দিবস বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায়
মে দিবসের চেতনা ও তাৎপর্যকে সামনে রেখে একথা সঙ্গত কারণেই বলা হয়, দেশের উৎপাদন ব্যবস্থাকে গতিশীল করে অর্থনীতিকে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সময়ের অনিবার্য দাবি। কথায় বলে, পানি নদীতে বাড়লে খালেও বাড়ে। উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য যদি ভালোভাবে চলে তাহলে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার আদায়ের পথ প্রশস্ত হবে। শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি বড় উপায় হলো বিনিয়োগ ও শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা। শিল্প-কারখানা বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে। এতে শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে। শ্রমিকদের চাহিদা ও কদর বাড়বে।

অথচ আজ থেকে যদি ১৪শত বছর পূর্বে ফিরে যাই তাহলে দেখবো মানবতার বন্ধু হযরত  মুহাম্মদ (সাঃ) তার প্রতিষ্ঠিত ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেছেন “শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি দিয়ে দাও” চির শাশ্বত সেই বানী আমাদের শ্রমিকের মর্যাদা দানে আরো উৎসাহিত করে যে “তারা(শ্রমিক) তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধিন করে দিয়েছেন, তাই তোমরা যা খাবে তাদের তা খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে তাদের তা পরতে দিবে”। তাছাড়া আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মেষ চরাতেন। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের সময় নিজের কাঁধে পাথর বহন করে শ্রমের উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শ্রমিকদের প্রতি মর্যাদাবোধ ও অধিকার প্রদানে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আমাদের আরো কর্তব্য পরায়ন করে তুলেছেন মানবতার এই মহান বন্ধু।

এমনকি অসংখ্য নবী এবং রাসুল আছেন যারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। আমরা আমাদের শ্রমিকদের মর্যাদার মুল্যায়ন এখান থেকেই করতে পারি। আমরা তাদের ভাই হিসেবে তাদের সুঃখ-দুখে অংশিদার হব, বিপদে পাশে দাড়াব আমাদের নবী রাসুলদের ইতিহাস এমন শিক্ষাই আমাদেরকে দেয়। দেড়শত বছর আগে থেকে মহান মে দিবস পালিত হয়ে আসলেও শ্রমিকরা তাদের ন্যয্য অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত বরং নির্যাতন আর নিষ্পেষনের যাতাকলে পিষ্ট তারা। শ্রমিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এই প্রতীকও শ্রমিকদের ন্যয্য অধিকার আদায় করতে পারেনি। শ্রমিক সমাজ কি নির্যাতন আর নিষ্পেষনের যাতাকল থেকে কখনই মুক্তি পাবেনা? তাদের মুক্তির অধিকার কি অধরাই থেকে যাবে? হ্যাঁ শ্রমিক সমাজ মুক্তি পেতে পারে এমন একটি কল্যানধর্মী সমাজ ব্যবস্থা থেকে যে সমাজ শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মুজুরি দিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়, যে সমাজ শ্রমিকদের মানব সম্পদ হিসেবে মুল্যায়ন ও মর্যাদা প্রদান করে। যে সমাজ ব্যবস্থা নিজে যা খাব শ্রমিককেও তা খাওয়াতে বলে, নিজে যা পরবো শ্রমিককেও তা পরতে দিতে বলে এমন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সকলে শামিল হলে শুধুমাত্র শ্রমিক সমস্যার সমাধানই নয় বরং গোটা মানব সমাজের মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।

লেখক তৈয়বুর রহমান টনি নিউ ইর্য়ক।

Shuvo Noboborsho

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য