Sydney, Australia, Saturday, 23 September, 2017           www.banglarkantha.com          Your online magazine
For Study, Visit or Migrate to Australia please contact on +64430040490 or email at jibon67@yahoo.com
pancocon Office Professional Plus 2013 Key and Download URL will be send via Email within 8 hours. cheap office 2013 key

এশিয়া কাপের ফাইনালে জিতলো বাংলাদেশ হারলো বাংলাদেশ- চ্যাম্পিয়ন ভারত

 

তৈয়বুর রহমান টনি নিউ ইর্য়ক থেকেঃ-

এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে জিততে পারলো না বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টির এক নম্বর দল টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেট হেরে গেলো স্বাগতিকরা। টাইগারদের করা ১২০ রানের জবাবে দুই উইকেট হারানো ভারত ৭ বল হাতে রেখেই জয় তুলে এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হলো। তুমুল বৃষ্টিতে মনে হয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশের সাথে ভারতের ম্যাচটি মাঠে গড়াবে না। আবারও বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ। ভেন্যূ সেই মিরপুর স্টেডিয়াম। ম্যাচ শুরুর সময়ও একই, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। তবে ম্যাচের গুরুত্ব আরও ব্যাপক। ফাইনাল। শিরোপা লড়াই। জিতলে বাংলাদেশ করতো নতুন ইতিহাস। আর তাই এ ম্যাচকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে টাইগার ভক্তদের ঘুম হারাম হয়েছিল। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে- এ প্রত্যাশায় উৎসবের সব প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছিল গোটা দেশ-বিদেশ।Bangla_India fainal 2016

Buy cheap Viagra online

লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে আয়োজন ‘বড় স্ক্রিনে’ খেলা দেখার। উৎসবের সব উত্তেজনায় পানি ঢেলে দিল প্রকৃতি। আবারও এশিয়া কাপে বৃষ্টির থাবা। এবার ফাইনালে। সেই বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে। এবার আর সময় মত খেলা মাঠে গড়ালো না। সাড়ে সাতটার ম্যাচ শুরু হলো রাত সাড়ে ৯ টায়।
তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে খেলা মাঠে গড়ালেও তা ২০ ওভার থেকে কমে হয়ে যায় ১৫ ওভারের। রাত পৌনে ৯টায় মাঠ পরিদর্শন শেষে এমন সিদ্ধান্ত জানান ম্যাচ রেফারি। এর আগে ৮টা ২৫ মিনিটে পিচের ওপর থেকে কাভার সরিয়ে নেয়া হয়। ম্যাচটি ১৫ ওভারে নির্ধারণ হওয়ায় পাওয়ার প্লে ৬ ওভারের পরিবর্তে নেমে ৫ ওভারে দাঁড়ায়। একজন সর্বোচ্চ তিন ওভার বল করতে পারবেন। ইনিংসের জন্য বিরতি রাখা হয় ১০ মিনিট।
এর আগে হঠাৎ সন্ধ্যায় শুরু হয় ঝড়ো বৃষ্টি। সোয়া ৬টার দিকে প্রচন্ড ঝড়সহ বৃষ্টি শুরু হলে ম্যাচ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে ৭টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর দ্রুতই মাঠে নেমে পড়েন গামিনি সিলভার নেতৃত্বে গ্রাউন্ডসম্যানরা। মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যাধুনিক হওয়ায় বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ থেকে সরে যায় পানি।IMG_2357

এদিকে, বাংলাদেশের গ্রাউন্ডসম্যানদের তৎপরতায় মুগ্ধ ইথান নামে ক্রিকইনফোতে এক ব্যক্তি লেখেন, কলকাতার মাঠের গ্রাউন্ডম্যানদের এখান থেকে শেখার আছে। আর পিচ দেখে বোঝার উপায় নেই যে বৃষ্টি হয়েছে, এমনটাই বলেছেন রাসেল আরনল্ড। স্বাভাবিক সময়ের মতোই পিচ যথেষ্ট শুকনো। সামান্য কুয়াশায় মাঠের চেহারা যেমন সে রকমই রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক এই লঙ্কান অলরাউন্ডার।
বৃষ্টি থামার পর ড্রেসিংরুমের সামনে ফুটবলে খেলে ওয়ার্মআপ সারেন মাশরাফিবাহনী। ধোনি-কোহলির ভারত দলও শরীর গরম করে নেয় ফুটবল খেলে।
এদিকে, প্রবাসে দিনের শুরুই যেন হয় এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার কথা নিয়ে।বাসায় অফিস, পরিবহন,  কর্মস্থল সব জায়গায়ই একই আলোচনা। কিন্তু সন্ধ্যার কালবৈশাখী ও ঝড় বৃষ্টি সেই ফাইনালকে ফেলে দেয় অনিশ্চয়তায়। আর তাতে স্বস্তি ফিরে সবার মাঝে। ঢাকায় যারা বড় পর্দায় খেলা দেখবেন বলে বিকেল থেকেই উপস্থিত আর প্রবাসে হয়েছিলেন জ্যাকসন হাইটসে, জ্যামাইকা, ব্রুলিন, ব্রোন্স, ম্যানহাটন, ওজনপার্ক বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে আর বাসা বাড়িতেতো আছেই কর্মস্থল সব জায়গায়ই তারা আবারও হাজির হন বড় পর্দার সামনে। বৃষ্টির কারণে খেলা না হলে কি হবে- এ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। জ্যাকসন হাইটসে সকাল থেকে খেলা পাগলরা ভীর করছিল প্রতিটা রেষ্টুরেন্টে ।আর তা শুরু হতে হবে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে। কারণ রিজার্ভ ডে ছিল না। আর যদি এত কিছুর পরও খেলা না হলে বাংলাদেশ ও ভারতকে যৌথভাবে ঘোষণা করা হতো এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে।IMG_2354

টস ভাগ্য ছিলনা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফির। ঠাণ্ডা আবহাওয়া আর বৃষ্টির যে আদ্রতা রয়েছে মাঠে, আর তাই ভেবে ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি কন্ডিশনকে কাজে লাগানোর জন্য টস জিতে ফিল্ডিং নিতে একটুও ভুল করলেন না। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১২০  রান করেছে বাংলাদেশ।

টস হেরে বাংলাদেশ দলের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার শুরুটা ভালোয় করেন। ইনিংসের প্রথম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে প্রথম চারটি হাঁকান সৌম্য। শর্ট লেন্থের বলে কাভার দিয়ে বল পাঠান সীমানার বাইরে। এরপরেই ওভারে আশিষ নেহেরার প্রথম বলে তামিম স্কোয়ার লেগ দিয়ে ফ্লিক করে চার আদায় করেন। তখন গ্যালারি জুড়ে টাইগার দর্শকদের শুরু বাঁধভাঙা উল্লাস।IMG_2344

কিন্তু তৃতীয় ওভারেই বোলিং পরিবর্তন আনেন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। পেসার জাসপ্রিত সিং বুমরাকে বোলিং আক্রমণের দায়িত্ব দেন। এই ওভার থেকে মাত্র দুই রান নেন তামিম-সৌম্য। তবে পরের ওভারে নেহেরার দ্বিতীয় বলে শর্ট লেন্থের বলে মিড অফ দিয়ে বলকে চারে পরিণত করেন। তবে চুপ করে বসে ছিলেন না অপর ওপেনার সৌম্য। নেহেরার ঐ ওভারের ৩য় ও ৪র্থ বলে দুটি চার হাঁকিয়ে পরের বলেই সৌম্য (১৪) মিড অফে হার্দিক পান্ডেকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই বাঁ-হাতি। তখন দলীয় রান ৪ ওভারে ২৭।

সৌম্যের আউটের সঙ্গে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশ দলের। জাসপ্রিত বুমরার দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে ফ্রন্ট ফুটে খেলতে যেয়ে তামিম অপয়া ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন।

এরপর ক্রিজে নামেন নতুন দুই ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান ও সাকিব আল হাসান। শুরু থেকেই দুজনের ব্যাট কথা বলছিল বেশ। জাদেজার করা ইনিংসের সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে পুর করে কাভার দিয়ে চার মারেন। ঐ ওভারের পঞ্চম বলে সাব্বিরও চার হাঁকান। জাদেজের বলে রিভার্স সুইপ করেন এই ডানহাতি। তখন বাংলাদেশের স্কোর কার্ডে ৮ ওভারে ২ উইকেটে ৫৮ রান।

টাইগারদের অষ্টম ওভারে হার্দিক পান্ডের শর্ট ডেলিভারিতে ফ্রন্ট ফুট শটে ডিপ স্কোয়ার লেগ দিয়ে বলকে সীমানার বাইরে পাঠান সাকিব। একই ওভারের শেষ বলে আবারো স্কুপ শটে চার রান স্কোর বোর্ডে যোগ করেন এই বাঁ-হাতি।

তবে দশম ওভারে অশ্বিনের প্রথম বলে সাকিব (২১) সুইপ করতে গেলে টপ এজ হয়ে মিড অনে বুমরার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে।

সাকিবের পর মুশফিক (৪) ও মাশরাফি (০) দ্রুতই ফিরে যান সাজঘরে। জাদেজার বলে মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে দুই নিয়ে যেয়েই রান আউটের ফাঁদে পড়েন মুশি। এরপরের বলে মাশরাফি ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে চাইলে কোহলির হাতে ধরা পড়েন ম্যাশ। তবে একপ্রান্তে আগলে ছিলেন

সাব্বির। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় বোলিংয়ের বিরুদ্ধে লড়ে যান এই ডানহাতি।

১৩তম ওভারে নেহেরার প্রথম বলে শর্ট ফাইন লেগ দিয়ে ফুলটস বলকে চারে পরিণত করেন সাব্বির। এরপর মাহমুদউল্লাহও ব্যাটে ঝড় তোলেন। নেহেরার ঐ ওভারে ৫ম বলে লং অফ এবং লং অনের মাঝামাঝি দিয়ে চার মারেন। তখন পুরো মাঠ যেন জন সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। চারদিকে শুধু একই ধ্বনি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।

১৪তম ওভারে আরো মারমুখী হয়ে উঠেন মাহমুদউল্লাহ। এই ওভারের প্রথম বলে লেগ সাইড দিয়ে চার এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকান রিয়াল।

১৪তম ওভারে আসে ২১রান। রিয়াদের ব্যাট থেকেই আসে ১৯। এ সময় দলীয় রান ৫ উইকেটে ১১৩ রান।

১৫তম ওভারে বুমরার প্রথম চার বল থেকে আসে

পাঁচ রান। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ ১৩ বলে ৩৩ রান ও সাব্বিরের ২৮ বলে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ভারতের হয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিন, অশিষ নেহেরা ও জাদেজা ও বুমরা নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

১২১ রানের টার্গেটে টিম ইন্ডিয়ার হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। প্রথম ওভারে টাইগারদের হয়ে বোলিংয়ে আসেন গতির ঝড় তোলা তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই রোহিত শর্মাকে সাজঘরে ফেরান আল আমিন হোসেন। স্লিপে সৌম্যর হাতে ধরা পড়েন ১ রান করা রোহিত।

দলীয় ৫ রানের মাথায় রোহিত শর্মাকে বিদায় করেন আল আমিন হোসেন। এরপর উইকেটে জুটি গড়েন বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান। অর্ধশতক হাঁকিয়ে ধাওয়ান ইনিংসের ১৩তম ওভারে তাসকিনের বলে বিদায় নেন। সৌম্যর দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন ৪৪ বলে ৯টি চার আর একটি ছক্কা হাঁকানো ধাওয়ান।

কোহলি ২৮ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন। আর ধোনির ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ২০ রান (৬ বলে)।

এ ম্যাচ জিতলে ইতিহাস সৃষ্টি করতো মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। জিততে পারলেই প্রথমবারের মতো বড় কোনো আসরের শিরোপা জিততো টাইগাররা।

এশিয়া কাপ শুরুর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে সাকিব-তামিম-মুশফিকরা। শেষ দুটি ম্যাচে হেরে বসে টাইগাররা। এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে, সব শঙ্কা দূরে ঠেলে নিজেদের পরের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারায় মাশরাফি বাহিনী। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেয় লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।

নিজেদের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টি-টোয়েন্টির অন্যতম সফল দল পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। সঙ্গে ফাইনাল নিশ্চিত করে মাশরাফি-তামিম-সাকিব-মুশফিক-আল আমিনরা।

 

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ, আবু হায়দার রনি ও নাসির হোসেন।

ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং, হারদিক পান্ডে, মহেন্দ্র সিং ধোনি, রবীন্দ্র জাদেজা, জাসপ্রিত বুমরাহ, আশিষ নেহরা ও রবীচন্দ্রন অশ্বিন।

 

Shuvo Noboborsho

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য